আজব ও জবর আজব অর্থনীতি

আজব ও জবর আজব অর্থনীতি Freakonomics ও Super Freakonomics. ইংরেজি freak শব্দটির সাথে Economics শব্দটির সন্ধি করে freakonomics শব্দটি পয়দা করা হয়েছে। আর Super Freakonomics বইটি এর পরের অংশ। সাধারণ মানুষেরা অর্থনীতির বই বলতে যা বুঝেন, সেই সব আলোচনা এই বই দুইটিতে করা হয় নি। তবে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বই দুইটি লিখা হয়েছে।অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ ধারণাটির জনক হচ্ছেন গ্যারি বেকার (Gary Becker) । ১৯৯২ সালে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরুষ্কার পান। বেকার অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন, 'It is a method of analysis and not an assumption about a particular motivations. Behavior is driven by a much richer set of values and preferences.'According to Gary Beaker, Economics is not only restricted with using your resources efficiently, Economics is a system, in which people behavior can be described. To describe such thing we need to know what people wants.এই সমস্যাটিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অতি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তার 'ঐকতান' কবিতায় :"সব চেয়ে দুর্গম যে মানুষ আপন আন্তরালে,তার পূর্ণ পরিমাপ নাই বাহিরের দেশে কালে।সে আন্তরময়,আন্তর মিশালে তবে তার অন্তরের পরিচয়।পাই নে সর্বত্র তার প্রবেশের দ্বার;"একমাত্র মানুষের অন্তরের পরিচয় জানলেই তার আচরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব। কিন্তু তার আন্তরের প্রবেশের দ্বার সহজে খুজে পাওয়া সম্ভব নয়। এটাই হল অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণের সমস্যা। Readable, but not as good as the previous book of the author "পরার্থপরতার অর্থনীতি"। অর্থনীতি, একসময় ছিল সমাজবিজ্ঞানের দুয়োরানি, যা পরে অভিহিত হয়েছে হতাশাগ্রস্থ বিজ্ঞান। নব্য উদারবাদে অর্থনীতি জুড়ে ভাগ বসিয়েছে সংখ্যা আর তত্ত্ব। এই অর্থনীতিই এখন সমাজ বিজ্ঞানের সম্রাজ্ঞী।অর্থনীতি এখন আর শুধু চাহিদা আর যোগানে সীমাবদ্ধ নয়, আইনশাস্ত্র থেকে শুরু করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সবখানে রয়েছে এখন তার দৌড়। জন্ম থেকে শুরু করে ধর্ম, যাবতীয় গবেষনায় এখন ব্যবহার করা হয়েছে অর্থনীতির সূত্র। কিন্তু এমন জটিল সব বিষয় নিয়ে আধমরা বাঙ্গালী পাঠকের জন্য নেই তেমন কোন বই।ডঃ আকবর আলি খান রচিত গ্রন্থ 'আজব ও জবর আজব অর্থনীতি'। ডজনখানেক প্রবন্ধ নিয়ে সমৃদ্ধ এই বই একজন সাধারণ পাঠকের সামনে খুলে দিবে অর্থনীতির জটিল সব হিসেব কে সহজে বোঝার এক নতুন দুয়ার।লেখককে নিয়ে নতুন করে বলার মত কিছু নেই। তার রচিত এই বই অর্থনীতি নিয়ে কোন একাডেমিক বই নয়। এটি লেখকের অসাধারণ এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতার এক গভীর নির্যাস। তার ১০ টি প্রবন্ধে তিনি আলোকপাত করেছেন ভিন্ন ১০ টি বিষয়ে। যেখানে স্থান পেয়েছে অর্থনীতি, সুশাসন, সমাজ এবং ইতিহাস। প্রতিটা প্রবন্ধ আমাদের দীর্ঘদিনের যাবতীয় ধারনাকে মুখোমুখি করে এক বিভ্রান্তিকর চ্যালেঞ্জের।লেখকের নিজস্ব এবং বিভিন্ন খ্যাতিমান পন্ডিতের বিশ্লেষনে সমৃদ্ধ বইটিতে লেখক নিজে কোন সিদ্ধান্ত দেননি। তিনি প্রশ্ন করেছেন পাঠককে, সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দিয়েছেন পাঠকের হাতে। দিনশেষে বইটি একটা সুখপাঠ্য। অর্থনীতি নিয়ে তাত্ত্বিক বিশ্লেষন নেই, আছে শুধু সুস্বাদুময় বর্ণনা। আমার মত আধমরা পাঠককে দিবে নতুন এক ধারনা। ড. আকবর আলি খানের কৃতিত্ব হচ্ছে বইটি লেখা হয়েছে সহজ ভাষায়, বৈঠকি মেজাজে। ইংরেজি "FREAKONOMICS" বইয়ের অবলম্বনে লেখা এই বইটি অত্যন্ত সুখপাঠ্য।সাধারণত অর্থনীতি বলতে আমরা যা বুঝি, এই বইটি সেরকম নয়।বরং অর্থনীতির মজার দিক টি ই এখানে আলোচনা করা হয়েছে। বইটি শুরু হয়েছে ফ্রিকোনওমিকস নামের আরেকটি বইয়ের রিভিউ বা পর্যালোচনা দিয়ে শেষ হয়েছে শিভিল সোশাইটি দিয়ে। এর মাঝে রয়েছে অনেকগুলো গবেষণা প্রবন্ধ যেগুলো আলোকপাত করেছে অর্থনীতির ভিন্ন কিন্তু মজার কিছু পরিসংখ্যান ও বিষয়। তিনি অর্থনীতিকে সংযুক্ত করেছেন রাজনীতি, সমাজনীতি, বিশ্বায়ন, নৃতত্ত্ব, ধর্ম, বিখ্যাত মানুষ দের বিভ্রান্তকর জন্মতারিখ ও এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব। গবেষণা প্রবন্ধ হলেও এতে তেমন কোন খটমট শব্দ বা ভাষার ব্যাবহার নেই। সহজপাঠ্য ও সহজপাচ্য ও বটে। নিখাদ আনন্দলাভের সাথে এক চিমটি অরথনীতি জানা। বইটি সুখপাঠ্য। অর্থনীতির তত্ত্ব নিয়ে জবড়জং লেখা খুঁজলে বইটি থেকে দুরে থাকুন। এখানে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নেই। আছে অর্থনৈতিক সমস্যাসংকুল ঘটনার সুস্বাদু বর্ণনা। কিভাবে পড়ব বুঝতেছি না হতাশাগ্রস্থ বিজ্ঞান নামে অভিহিত অর্থনীতি ছিল একদিন সমাজবিজ্ঞানের দুয়োরানি।অথচ অর্থনীতিই আজকের সমাজবিজ্ঞানের সম্রাজ্ঞী। এর আওতা শুধু চাহিদা জোগান বা রুটি রোজগারেরর মতো আটপৌরে সমস্যায় সীমিত নয়। অর্থনৈতিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান আইনশাস্ত্র আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইতিহাস সংগঠন ও সিদ্ধান্ত তত্ত্বে এবং সমাজতত্ত্বের সব শাখায়। জন্ম বিবাহ ধর্ম এমনকি ভাষা নিয়ে গবেষণায়ও প্রয়োগ করা হচ্ছে অর্থনীতির সূত্র।দুর্ভাগ্যবশত অর্থনীতির বিকাশমান মাত্রা ও নতুন ধারাসমূহের বৈভন এখনো বাংলা ভাষায় প্রতিফলিত হয়নি। বাংলায় অর্থনীতি এখনো মান্ধাতা আমলের পাঠ্যবিষয় ও বাম ডানির তরজায় সীমাবদ্ধ।গতানুগতিক গণ্ডির বাইরের কিছু অর্থনৈতিক তত্ত্বের সঙ্গে বাঙালি পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেবে এ বই।প্রবন্ধগুলোর বিষয়বস্তু বিচিত্র ও কৌতূহলোদ্দীপক।একটি প্রবন্ধের শিরোনাম ‘ভেগোলজি ও অর্থনীতি।’ দুটি প্রবন্ধে অর্থনীতিতে অনভিপ্রেত পরিণাম ও মিত্রপক্ষের গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।দটি প্রবন্ধের উপজীব্য বিশ্বায়ন। সুখ ও অর্থনীতির সম্পর্ক নিয়ে পর্যালোচনা দেখা যাবে একটি নিবন্ধে।তথ্য অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ‘সুকতলার অর্থনীতি ও জুতার রাজনীতি’তে। একটি প্রবন্ধে জন্মদিনের অর্থনীতি ও আরেকটি প্রবন্ধে সরকারের অপচয় নিয়ে বিশ্লেষণ রয়েছে। নির্ভেজার গবেষণামূলক এই বই লেখা হয়েছে সহজ ভাষায় বৈঠকি মেজাজে।সূচিপত্র ‘আজব’ ও ‘জবর আজব’ অর্থনীতি মিত্রপক্ষের গুলি অনভিপ্রেত পরিণামের অর্থনীতি সুখের লাগিয়া সুখ ও অর্থনীতি ভেগোলজি ও অর্থনীতি ‘না মিথ্যা না সত্য’ সুকতলার অর্থনীতি ও জুতার রাজনীতি অর্থনীতি ও রাজনীতিতে তথ্যের ভূমিকা শুভ জন্মদিন জন্মদিনের অর্থনীতি ও রাজনীতি সরকারের অপচয় রাজনৈতিক অর্থনীতি বিশ্বায়ন একটি সমীক্ষা ও কয়েকটি অমীমাংসিত প্রশ্ন বিশ্বায়ন ও বাঙালির সত্তার অন্বেষা একদিন বাঙালি ছিলাম রে বাংলাদেশে সিভিল সমাজ বাস্তবতার সন্ধানে একটি ধারণা নির্ঘন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *